বান্দরবান থেকে ফিরে: পাড়ার দোকানটিতে কিছুক্ষণ জিরিয়ে এবার উঠতে হবে নেফিউ পাড়া, তলাংময় বেস ক্যাম্পে। রেমাক্রি ধরে একটু এগিয়ে এবার একটানা উঠছি।
নেফিউ ফলসের ধারা পেরিয়ে শেষ চড়াইটা ধরে যখন এগোচ্ছি তৌহিদ ঘোষণা করলো আজই তলাংময় সামিট। কেঁপে উঠলাম। বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়ায়!! আর কিছুক্ষণের মধ্যেই। পাড়ায় পৌঁছাতে পৌঁছাতে দুপুর আড়াইটার মতো বেজে গেলো।

undefined
কারবারির ঘরে ব্যাগ প্যাক জিম্মা রেখে পা বাড়ালাম স্বপ্ন চূড়ার পথে। প্রখর সূর্য চারপাশ একেবারে তাঁতিয়ে দিয়েছে। পাড়া থেকে একটু দূরে ঝিরি পড়লো। সেখানে বোতলটি ভরে নিলাম। অদ্ভুত মিষ্টি জল। সারা জীবন মনে থাকবে।

undefined
ট্রেইলের আশপাশে বিশাল বিশাল সব গর্জন গাছ। এত দুর্গম পাহাড় বলেই বোধহয় টিকে আছে। একটানা উঠতে হবে এ পথে। এরপর বাঁশবনের শুরু। এতক্ষণ ভালোই ছিলাম।

undefined
বাঁশবন শুরু হতেই পথের দিশাও কমতে লাগলো। পায়ের নীচে আবার সেই প্যাঁচপ্যাঁচে কাদা। সঙ্গে জোঁকের ভয়। এই ভর দুপুরেও কি নির্জন চারপাশ। গা ছমছম করে।

undefined
এখান থেকে চূড়া দেখা যাচ্ছে। এরই মধ্যে উঠতে উঠতে পাশের পাহাড়গুলোর সমতলে চলে এলাম। যত এগোতে লাগলাম পাল্লা দিয়ে শক্তি বাড়াতে লাগলো ক্লান্তি।

undefined
আসলে লক্ষ্যের কাছাকাছি পৌঁছালে তা ছোঁয়ার ব্যাকুলতা দুর্বলতাকে ডেকে আনে। এক পর্যায়ে বাঁশবনের দৌরাত্ম্য কিছুটা কমলো। তৌহিদ বললো আর দশ মিনিট হাঁটলেই চূড়া।
এখানে আবার বাঁশবনের উপদ্রপ। চারপাশে কিছুই দেখা যাচ্ছে না। এর মধ্যেই যেখানে এসে পৌঁছালাম যার পর আর যাওয়ার জায়গা নেই। তৌহিদ চেঁচিয়ে দেখালো ওই দূরের মায়ানমারের পিংক্যাং জলপ্রপাতের সাদা রেখা।

undefined
আমার কি আর সেদিকে খেয়াল আছে। আমার সান্নিধ্য তখন দেশের সর্বোচ্চ চূড়ার সঙ্গে। অনেক সময় ধরে দেদারসে ফটো সেশন চললো। ছোট হোক বড় বড় হোক আমার দেশের সর্বোচ্চ চূড়া বলে কথা!

undefined
তলাংময়কে তাই সম্মান দিতেই হবে। ঈদের দিনের বিকেলটা কাটলো বাংলাদেশের সর্বোচ্চ বিন্দুতে। এর চেয়ে ভালো ঈদ কেটেছে কখনো? আধ ঘণ্টার মতো ছিলাম। বিকেলের মরা আলো আমার চিবুক ছুঁয়ে ঘুমের দেশে চলেছে। দূরে দেখা যাচ্ছে মায়ানমারের ঢেউ খেলানো পাহাড় সারি।

undefined
দু’দেশের একেবারে মাঝখানে দাঁড়িয়ে আছে মোদক রেঞ্জের সবচেয়ে উঁচু এ চূড়া। তৌহিদ ফিরে যাওয়ার কথা বললেও যেতে ইচ্ছে করছিলো না। কিন্তু নীচের ফেলে আসা পথের কথা ভাবতেই উঠে দাঁড়ালাম। আজ রাতে থাকবো নেফিউ পাড়ায়। ঈদ রাতের কেমন অভিজ্ঞতা তা আগামী পর্বে...
বাংলাদেশ সময়: ০৭৫৫ ঘণ্টা, নভেম্বর ১৭, ২০১৫
এএ
** জোঁকে রক্তাক্ত হয়ে আমার দেখা সুন্দরতম পাড়ায়
** বর্ণনাতীত কষ্ট, তবু স্বপ্ন ছোঁয়ার আশায় পাড়ি
** বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়ায়-১: পাহাড়জয়ের স্বপ্নপথে যাত্রী আমি একা
** বাংলাদেশের সর্বোচ্চ চূড়ায়-২: মেঘ চেপে ধরলো চারপাশ থেকে, পথ দেখা দায়