সমুদ্র সৈকত কার না প্রিয়। সামনে বিশাল নীল সমুদ্র, সাদা বালির বিস্তর প্রান্তর আর পাথরের ওপর আঁছড়ে পড়া নীল জলরাশিতে সময় কাটাতে মানুষ ছুটে যায় সমুদ্র সৈকতে।
নিজ দেশ ছাড়াও সমুদ্রের টানে মানুষ ছুটে যায় ভিন্ন ভিন্ন দেশে। উপভোগ করে তার অন্তিম পরম শান্তির মুহূর্তগুলোকে। আর সে সময়গুলোকে ধরে রাখে প্রিয় ক্যামেরায়। আজ আমরা হাজির হয়েছি বিশ্বসেরা দশটি সমুদ্র সৈকতের সৌন্দর্য নিয়ে। চলুন একবার ঘুরে দেখি—
সেইশেলস

undefined
হালকা গোলাপি বালুকাবেলার এই সমুদ্র সৈকতটি “লা দিগ” দ্বীপের অংশবিশেষ। এছাড়া এটি ভারত সাগরের ১১৫টি দ্বীপপুঞ্জেরও একটি অংশ এটি। ঝকঝকে বালির ফাঁকে ফাঁকে গ্রানাইট পাথরের ওপর ফিরোজা রঙের অগভীর জলরাশি আঁছড়ে পড়ছে অনবরত। এখানকার সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল, আবহাওয়ার সাথে সাথে এই গ্রানাইট পাথরগুলোর আকারে পরিবর্তন দেখা যায়। সূর্যস্নানের জন্যও জায়গাটা খারাপ নয় কিন্তু!
মালদ্বীপ

undefined
আপনি কি স্বপ্ন দেখছেন একটি দ্বীপে কয়েক দিন ও গোটা কয়েক রাত পার করার ? যেখানে পানির ৮০ ফুট নিচে ফোর স্টার রিসোর্টে থাকাসহ উপভোগ করতে পারবেন গভীর জলে ভেসে বেড়ানো মাছের খেলা। মালদ্বীপ হচ্ছে এমন একটি জায়গা যেখানে আপনার এই স্বপ্ন পূরন হবে। এছাড়াও পাবেন নির্মল বায়ুর সাথে সাদা বালুকাময় সমুদ্রে সাঁতার কাটা, মাছ ধরা, স্কিইং, উইন্ড সার্ফিংসহ রঙিন ঘুড়ি ওড়ানোর সুযোগ।
বোরা বোরা, তাহিতি

undefined
ফরাসি পলিনেশিয়ার এই অসম্ভব সুন্দর দ্বীপটি দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরে অবস্থিত। মাত্র ১৮ মাইল আয়তনের সাদা বালির এই দ্বীপটি লেগুন দ্বারা বেষ্টিত। এখানকার সবচেয়ে আকর্ষণীয় জায়গার নাম মেটিরা পয়েন্ট। বোরা বোরা দ্বীপ “রোমান্টিক দ্বীপ” নামেও পরিচিত। এখানকার বিচ্ছিন্ন সৈকতসমূহ, শান্ত পরিবেশ ও নিবিড় হোটেলই বোধ হয় এই নামকরণের পেছনে ভূমিকা পালন করছে।
হ্যাম্পটনস, নিউইয়র্ক

undefined
খোলা আবহাওয়ায় অবগাহন করতে হলে আপনাকে চলে আসতে হবে লং আইল্যান্ডের সবচেয়ে মোহনীয় হ্যাম্পটন দ্বীপে। সমুদ্র সৈকতের এই অক্ষত রেখা বয়ে গেছে দক্ষিণ হ্যাম্পটন থেকে মনটেকের পূর্ব ও শেষপ্রান্তে। সবুজ ঘাসে ঘেরা আটলান্টিক মহাসাগরের এই সমুদ্র সৈকত আপনাকে দেবে চির প্রশান্তি।
লানিকাই সৈকত, হাওয়াই

undefined
সদূর প্রসারিত ঝকঝকে বালি আর সারি সারি পামগাছ আর ক্রান্তীয় গ্রীষ্মমণ্ডলীয় গাছে ঘেরা হাওয়াই দ্বীপের লানিকাই সমুদ্র সৈকতে বসে দেখতে পাবেন সকালের নতুন সূর্য আর গোধূলীবেলার সূর্যাস্তের অপরূপ দৃশ্য। এই মনোরম দৃশ্যের সাথে অবগাহন করার সুযোগ আছে টলটলে সবুজরঙা জলরাশিতে।
নানতুকেত দ্বীপ, মাসাচ্যুসেস

undefined
যারা সার্ফিং ভালোবাসেন তাদের কাছে নামটা অচেনা নয়। উত্তর আটলান্টিক মহাসাগরের এই দ্বীপটি সার্ফিংয়ের জন্য তো বটেই বাচ্চাদের কাছেও ভীষণ জনপ্রিয়। এখানকার পানি সর্বদাই শান্ত থাকে ও বালুকাবেলা ব্যবহৃত হয় সূর্যস্নান ও বালুর ভাস্কর্য তৈরিতে। এখানকার মাদাটেক সৈকত মূলত সার্ফিংয়ের জন্য ও সূর্যাস্ত দেখার জন্য বিখ্যাত অন্যদিকে কুইডনেট সৈকতটি ধারণ করে আছে সানকেটি হেডলাইট হাউজের দারুণ দৃশ্য।
ফ্রাসের দ্বীপ, অস্ট্রেলিয়া

undefined
ফ্রাসের দ্বীপ বিশ্বের সবচেয়ে বৃহৎ বালি দ্বীপ। ব্রিজবেনের উত্তর-পূর্বে কুইনসল্যান্ড উপকূলের ১৬১ মাইল দূরে এটি অবস্থিত। বিশ্বখ্যাত এই পর্যটন কেন্দ্রটি প্রকৃতিপ্রেমীদের জন্য নৈঃসর্গিক একটি স্থান। এখানকার চিরহরিত গাছগুলোর মধ্যে ১০০০ বছরেরও পুরোনো গাছ পাওয়া গেছে। প্রতিবছর এখানে বিপুল পরিমাণ পর্যটক বেড়াতে আসেন।
সেন্ট বার্টস

undefined
ক্যারিবিয়ান দ্বীপগুলোর মধ্যে সেন্ট বার্টস দ্বীপই হলো একমাত্র দ্বীপ যেখানে ফরাসি শিল্প ও বিনোদনের অপূর্ব সংমিশ্রণ ঘটেছে। নির্জন সৈকত, অসাধারণ রান্ধন, সেবাদানকারী হোটেল ও গ্রীষ্মমণ্ডলীয় খেলার মাঠ এখানকার পর্যটন শিল্পকে করে তুলেছে পরিপূর্ণ। ৮ মাইল দীর্ঘ এই দ্বীপে ২০টির মতো সমুদ্র সৈকত রয়েছে।
লংকাউই, মালয়শিয়া

undefined
লাংকাওয়াই অর্থ একজনের শুভেচ্ছা ভ’মি। কথিত আছে যে এটি আগে জলদস্যুদের আশ্রয়স্থল ছিল। বিচ্ছিন্ন এই জায়গাটি লুকোনোর জন্য বেশ ভালো জায়গাই বলতে হবে। যদি আপনি আপনার ছুটির দিনগুলোকে নিস্তব্ধ,নিবিড় নীল সমুদ্রে ঘেরা সাদা বালিকাময় এলাকায় কাটাতে চান তাহলে এই জায়গাটির জুড়ি নেই। সমুদ্রের সাথে সাথে উপভোগ করতে পারবেন চিরহরিত জঙ্গলের প্রাণীজীবনকেও। এছাড়াও আন্দামান সাগরের পুলাউ লাংকাওয়াইয়ের দাতাই বে তে উপভোগ করতে পারবেন নৈ:সর্গীক পৃথিবীর অপরূপ লীলাভ’মি।
কাউনাওয়া, হাওয়াই

undefined
আলোহা রাষ্ট্রে অবস্থিত কাউনাওয়া বইছে হাওয়াই দ্বীপপুঞ্জের মধ্যে সবচেয়ে বিশুদ্ধ হাওয়া। ০.২৫ মাই দীর্ঘ অর্ধচন্দ্রাকার এই সমুদ্র সৈকতটিতে রয়েছে সারি সারি পাম গাছ।
কি বন্ধুরা ঠিক করেছেন তাহলে এবার ছুটিতে ভ্রমনে যাবেন কোন সমুদ্র সৈকতটিতে!
বাংলাদেশ সময়: ১৩১৬ ঘণ্টা, জানুয়ারি ১৫,২০১৫